সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

সাঈদীর জন্য বা নেতার জন্য জীবন দিলে সে কি শহিদ?

আস্সালামুআ'লাইকুম।

" ভাইয়া একটা প্রশ্ন ছিল  সাইদীর জন্য মারা গেলে তাকে শহীদ কেন বলা হবে?"
আশাকরি এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে উপকৃত করবেন।

''::::::::
ওয়ালাইকুম আসসালাম।
প্রথমত কথা হচ্ছে,
আমরা অন্যায়ের বিরোধীতা করি।
কেননা আল্লাহর ঘোষনা:-

আর তোমরাই  সর্বোত্তম জাতি। তোমাদের বের করা হয়েছে সৎকাজের নির্দেশ দিবে ও অন্যায় কাজে বাঁধা প্রদান করবে।
আর নিজেরাও ঈমানের উপড় অটল থাকবে(    )

রাসুল (স:) বলেছেন,
যখন কোনো অন্যায় সংঘঠিত হবে।
তা হাত দ্বারা প্রতিহত করবে যদি তাতে অপারগ হও মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করবে।আর তাও যদি অপারগ হও অন্তর দ্বারা ঐ কাজকে ঘৃনা করবে।
তবে এটা সর্বনিম্ন ঈমানের পরিচয়।

এখন কথা হচ্ছে, এখানে ব্যাক্তি সাঈদী নয়।
যে কেউ জুলুমের স্বীকার হলেই বাধা দেয়া ঈমানী দায়িত্ব।
আর ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ মারা গেলে হাদিসের আলোকে  সে নিশ্চিত শহিদ। যেমন কেউ নামাজে এর জন্য মসজিদে রওয়ানে হলো হঠাৎ আততায়ী দ্বারা নিহত হলো, নিশ্চিত সে শহিদ।

এ ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম ভাইয়ের জীবন রক্ষার জন্য সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের নজির পাওয়া যায়।

যখন হযরত ওসমান (রা:) যখন মক্কার কাফের কতৃক  হত্যার উপক্রম হয়েছিলেন
তখন তার সাথীরা(সাহাবিয়া রা: গন) রাসুল (স:) এর হাতে এই মর্মে বয়াত গ্রহন করেছিলেন যে,প্রয়োজনে আমাদের জীবন যাবে তবুও ওসমানকে(রা:) ফিরিয়ে আনব।

এই বায়াত ইসলামের ইতিহাসে বাইতুর রিদয়ান নামে আখ্যায়িত  হয়েছে।

আতএব শুধু সাঈদী নয় যে কোনো অন্যায়ের জন্য প্রতিবাদ ঈমানী দায়িত্ব।
আর এই দায়িত্ব শুধু জামায়াত-শিবিরের নয়।
আপনার আমার সবার।

তরিকুল ইসলাম রাসেল
শারজাহ,আরব আমিরাত।

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০১৫

শিবিরের চরিত্র! রগ কাটা শিবির

সবাই যদি  এমন হতো! 

সে কি প্রান জুড়ানো ভদ্রতা,কি অমায়িক আচারন!
হৃদয়ের অনন্তকালের সুপ্ত বাসনা! আমি যদি আজীবন শিবির করতে পারতাম! :'(

কিন্তু না শিবির আমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে!
আমাকে   সরিয়ে দিয়ে নতুন দের জায়গা করে দিয়েছে!
কাজ তো তার এটাই, মানুষ গড়াই তো তার ভ্রত! 

সাল-টা ছিলো সম্ভাবত ২০০৮/০৯.....
কোনো এক সাথী প্রোগ্রাম চলছিলো....শাখা সেক্রেটারি  আরিফ ভাইকে আপ্যায়ন করার অনুরোধ জানালেন,কিন্তু উনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না! 
বক্তার বক্তাব্যের দিকেই ছিলো তার আকর্ষণ!বিভিন্ন  বিষয় শেখা, নোট করায় ছিলো তার মনোযোগ! 

সেক্রেটারি ভাই,অন্যকে দিয়েই  কাজ সারিয়ে নিলেন!

মোনাজাতের আগে সর্বশেষ পর্ব এহতেসাব,,,
একে একে নিজেকে ভাইদের সামনে সমার্পন করে যাচ্ছে,কারো মুখে   তাকানো যায় না,কালো হয়ে আছে মুখ পাছে কি না কি ভুল হয়ে গেলো!
মুখ নিচু করে   ঠায় দাঁড়িয়ে একে একে ভুল   সংশোধনের চেষ্টা চলছে।

আরিফ ভাইর নিজেকে সমার্পন করলেন,
তিনি শাখার সক্রিয় জনশক্তিদের  অন্যতম ছিলেন।ছিলেন সবার চেনা প্রিয় মুখ। সেক্রেটারি ভাইয়ের থেকে বয়সে সে সিনিয়র ছিলেন।

তিনি যখন নিজেকে সমর্পন করলেন,সাথে সাথে দেখা গেলো অনেক গুলো হাত,,সবাই হাত তুললেন! সবার এহতেসাব আছে আরিফ ভাইয়ের ব্যাপারে।

দায়িত্বশীল কিছুটা ভীত হয়ে পরলেন,না জানি আমার প্রিয় ভাই কত অন্যায় করে ফেলেছে।

এতো হাত দেখে আরিফ ভাইয়ের অবস্থা ও কাহিল না জানি কত জবাব দিতে হয়।
ভয়ে কাঁপতে লাগলেন আরিফ ভাই।

দায়িত্বশীল ইশারায়  হাত নিচু করতে বললেন সবাইকে।

আরিফ ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন,এই প্রোগ্রামে আপনার এতো এহতেসাব আমার কাছে পচ্ছন্দের না।
আপনি ২/৩ ঘন্টার প্রোগ্রামে এমন কি কি করলেন?

আরিফ  ভাই বলছিলেন,ভাই আমি কোনো অন্যায় করিনাই- ওযু করে প্রোগ্রামে ঢুকে নোট আর আলোচনায় ব্যাস্ত ছিলাম কারো সাথে তেমন কথাও বলিনাই।
ফোন পকেটেই ছিলো।।

এবার একে একে ভাইদের এহতেসাব দিতে বললেন।

এহতেসাব  থেকে বোঝা গেলো এই পর্যন্ত ঐ ঘটনাই সবার নজরে পরেছে যে,তাকে আপ্যায়ন করার জন্য বলা হলেও সে করে নাই।

আরিফ ভাই ব্যাখ্যা করলেন,জ্বী আমি আন্তরিক দু:খিত।আগামীতে ইন শা আল্লাহ এমন হবে না, তবে সেক্রেটারি ভাই আমাকে জোর দিয়ে কিছু বলেন নাই,
শুধু বলেছে,আসেন আরিফ ভাই, আজকে আপ্যায়নটা আপনি করলেই ভালো হয়।

দায়িত্বশীল ভাই আরিফ কে বসিয়ে দিলেন,আর বললেন,আমাদের চরিত্র নয় আমরা নির্দেশ করব বা আদেশ। আমরা তো ভাইদের অনুরোধ করে থাকি মাত্র।
ধরুন আপনি সেক্রেটারি ভাইয়ের থেকে বয়সে বড় আপনাকে সে আদেশ করবে কেমন দেখায়?
অনেক দায়িত্বশীল আছেন অনেক ছোট যারা অনেক মুরুব্বিদের ও দায়িত্বশীল।

আরিফ চোখের পানি মুছলেন,আর সভাপতি তাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিলেন।

সল্প মোনাজাত শেষে সুরা আসর তিলাওয়াত করতে করতে যে যার গন্তব্যের দিকে ছুটলেন।

আল্লাহ ভাইদের প্রতি রহম করুন।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫