সোমবার, ২০ জুলাই, ২০১৫

শিবিরের চরিত্র! রগ কাটা শিবির

সবাই যদি  এমন হতো! 

সে কি প্রান জুড়ানো ভদ্রতা,কি অমায়িক আচারন!
হৃদয়ের অনন্তকালের সুপ্ত বাসনা! আমি যদি আজীবন শিবির করতে পারতাম! :'(

কিন্তু না শিবির আমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে!
আমাকে   সরিয়ে দিয়ে নতুন দের জায়গা করে দিয়েছে!
কাজ তো তার এটাই, মানুষ গড়াই তো তার ভ্রত! 

সাল-টা ছিলো সম্ভাবত ২০০৮/০৯.....
কোনো এক সাথী প্রোগ্রাম চলছিলো....শাখা সেক্রেটারি  আরিফ ভাইকে আপ্যায়ন করার অনুরোধ জানালেন,কিন্তু উনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না! 
বক্তার বক্তাব্যের দিকেই ছিলো তার আকর্ষণ!বিভিন্ন  বিষয় শেখা, নোট করায় ছিলো তার মনোযোগ! 

সেক্রেটারি ভাই,অন্যকে দিয়েই  কাজ সারিয়ে নিলেন!

মোনাজাতের আগে সর্বশেষ পর্ব এহতেসাব,,,
একে একে নিজেকে ভাইদের সামনে সমার্পন করে যাচ্ছে,কারো মুখে   তাকানো যায় না,কালো হয়ে আছে মুখ পাছে কি না কি ভুল হয়ে গেলো!
মুখ নিচু করে   ঠায় দাঁড়িয়ে একে একে ভুল   সংশোধনের চেষ্টা চলছে।

আরিফ ভাইর নিজেকে সমার্পন করলেন,
তিনি শাখার সক্রিয় জনশক্তিদের  অন্যতম ছিলেন।ছিলেন সবার চেনা প্রিয় মুখ। সেক্রেটারি ভাইয়ের থেকে বয়সে সে সিনিয়র ছিলেন।

তিনি যখন নিজেকে সমর্পন করলেন,সাথে সাথে দেখা গেলো অনেক গুলো হাত,,সবাই হাত তুললেন! সবার এহতেসাব আছে আরিফ ভাইয়ের ব্যাপারে।

দায়িত্বশীল কিছুটা ভীত হয়ে পরলেন,না জানি আমার প্রিয় ভাই কত অন্যায় করে ফেলেছে।

এতো হাত দেখে আরিফ ভাইয়ের অবস্থা ও কাহিল না জানি কত জবাব দিতে হয়।
ভয়ে কাঁপতে লাগলেন আরিফ ভাই।

দায়িত্বশীল ইশারায়  হাত নিচু করতে বললেন সবাইকে।

আরিফ ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন,এই প্রোগ্রামে আপনার এতো এহতেসাব আমার কাছে পচ্ছন্দের না।
আপনি ২/৩ ঘন্টার প্রোগ্রামে এমন কি কি করলেন?

আরিফ  ভাই বলছিলেন,ভাই আমি কোনো অন্যায় করিনাই- ওযু করে প্রোগ্রামে ঢুকে নোট আর আলোচনায় ব্যাস্ত ছিলাম কারো সাথে তেমন কথাও বলিনাই।
ফোন পকেটেই ছিলো।।

এবার একে একে ভাইদের এহতেসাব দিতে বললেন।

এহতেসাব  থেকে বোঝা গেলো এই পর্যন্ত ঐ ঘটনাই সবার নজরে পরেছে যে,তাকে আপ্যায়ন করার জন্য বলা হলেও সে করে নাই।

আরিফ ভাই ব্যাখ্যা করলেন,জ্বী আমি আন্তরিক দু:খিত।আগামীতে ইন শা আল্লাহ এমন হবে না, তবে সেক্রেটারি ভাই আমাকে জোর দিয়ে কিছু বলেন নাই,
শুধু বলেছে,আসেন আরিফ ভাই, আজকে আপ্যায়নটা আপনি করলেই ভালো হয়।

দায়িত্বশীল ভাই আরিফ কে বসিয়ে দিলেন,আর বললেন,আমাদের চরিত্র নয় আমরা নির্দেশ করব বা আদেশ। আমরা তো ভাইদের অনুরোধ করে থাকি মাত্র।
ধরুন আপনি সেক্রেটারি ভাইয়ের থেকে বয়সে বড় আপনাকে সে আদেশ করবে কেমন দেখায়?
অনেক দায়িত্বশীল আছেন অনেক ছোট যারা অনেক মুরুব্বিদের ও দায়িত্বশীল।

আরিফ চোখের পানি মুছলেন,আর সভাপতি তাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিলেন।

সল্প মোনাজাত শেষে সুরা আসর তিলাওয়াত করতে করতে যে যার গন্তব্যের দিকে ছুটলেন।

আল্লাহ ভাইদের প্রতি রহম করুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন